লুফাত ও স্বতন্ত্রার গল্প

“হুট করেই একদিন সে বলে বসে,
তুমি আমাকে বিয়ে করবে? আমার সাথে সারাজীবন থাকবে?
আমি ওর কথা শুনে কেবল চুপ করে গেলাম। এবং ভাবলাম এটা কি সত্যি?
আমি বাঙ্গালী মুসলিম মেয়ে ও ইন্ডিয়ান- তেলেগু হিন্দু ছেলে।
সংসার করতে হবে অ্যামেরিকায়।………………
………………ফাইনালি আমরা পেরেছি।
ঘোলাটে স্বপ্ন আজ সত্যি হল।
আমরা এখন বিবাহিত।”_লুফাত

# লুফাত ও স্বতন্ত্রার গল্প #
================
গল্পটা ছিলো ২০১২ সালের, ঢাকার মেয়ে লুফাত সবে মাত্র হাইস্কুল পেরিয়ে হায়ার স্টাডির জন্য আমেরিকায় গিয়েছে। একে তো সব নতুন, এর মাঝে বয়সটাও কম, চঞ্চল স্বভাবের লুফাতের বেশ বোরিংই কাটছিলো আমেরিকার জীবন। ইউনিভার্সিটি আর ডর্মেটরি এর মাঝেই ছিলো তার চলাফেরা।

একদিন এক ইন্ডিয়ান-বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রোগ্রামে গিয়েছিল ওরা; ওখানে এক বন্ধুকে বলেছিলো তার ছবি তুলে দেবার জন্য, ঠিক তখনই ওই একইরকম পোজে ছবি তোলার জন্য আবদার ধরে বসলো তেলেগু ছেলে স্বতন্ত্রা। লুফাত তো রেগেই শেষ, ওর ভাষ্যমতে, “আরে এইটা তো আমার সিগনেচার পোজ, এই ছেলে কেন দিবে?” লুফাত তাও দাঁতে দাঁত চেপে স্বতন্ত্রার কয়েকটা ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলো ওর ফেসবুক আইডিতে।

কি ভেবেছেন, বিশাল এক ট্র্যাজিডি হবে গল্পের এই মোড়ে এসে? নাহ, গল্পের মাত্র শুরু! আবার আরেকটি প্রোগ্রামে দেখা হয়ে গেলো স্বতন্ত্রা আর লুফাতের। আর আজ লুফাতই এগিয়ে এলো কথা বলতে, এক কথা দুই কথা করে টুকটুক করে এগিয়ে গেলো বাকি সময়টুকু। লুফাত বেচারী কি নিয়ে গল্প করবে তা ভেবে উঠতে না পেরে বারবার বিভিন্ন হিন্দী সিনেমার নাম নিয়ে স্বতন্ত্রাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো এটা দেখেছে কি না, ওটা দেখেছে কিনা । স্বতন্ত্রা জানালো এর অধিকাংশ সিনেমাই ও দেখেনি, লুফাত তখন মনেমনে ভাবলো “কি ইন্ডিয়ান রে বাবা, হিন্দী সিনেমা দেখেনা?”

না না, গল্পের শেষ এখানেও নয়। কথায় বলেনা, চুম্বকের বিপরীত মেরু একে অপরকে আকর্ষণ করে? ওদের বেলায়ও ঠিক তাই ঘটেছিলো। আস্তে আস্তে কথা হতে লাগলো দু’জনের, দু’জনেই বুঝতে পারছে ভালোলাগা বাড়ছে, কিন্তু মুখ ফুটে বলছেনা কেউই। মনের অজান্তে একটা ভয়, কনফেস করলে যদি বন্ধুত্বটাই নষ্ট হয়ে যায়। লুফাতের কফি খুব পছন্দ, এক রাতে লুফাত স্বতন্ত্রাকে জানায় যে ওর ভীষণ কফি খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু ডর্মেটরির ক্যাফেটেরিয়া ততক্ষণে বন্ধ। এই শুনে স্বতন্ত্রা ছোট্ট ফ্লাক্সে করে কফি বানিয়ে রাত ১১টার দিকে আসে লুফাতের কাছে। এর পরেই কফির ম্যাজিকেই কিংবা মনের খেলাতেই লুফাত টের পেলো কিছু একটা হচ্ছে ওর ভেতর। লুফাত বুঝতে পারলো যেই ছেলে ওর এই ছেলেমানুষী আবদার পূরণ করতে পারে হাসিমুখে, তার সাথেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়।

ইউনিভার্সিটির দশ মাসের প্রোগ্রাম শেষে লুফাতের দেশে ফেরার ডাক এলো, এয়ারপোর্টে দুজনেরই চোখ ছলছল। বাংলাদেশে ফেরার পর লুফাতের কাছে স্বতন্ত্রার একের পর এক টেক্সট, যেখানে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লেখা থাকতো একটাই কথা… ফিরে এসো আবার। কি ভাবছেন তাদের মাঝে প্রেম হয়ে গেছে? না ঠিক তা নয়। এখনো কেউ তাদের মনে কথা কাউকে বলেনি।

২০১৩ তে ৩ মাস দেশে থেকে আবার অ্যামেরিকায় ফিরে যায় লুফাত। ফিরে গিয়ে লুফাত স্বতন্ত্রার সাথে কথা বলেনি অনেক দিন। এর মাঝে কেবল বন্ধু হয়েই ছিল তারা। কারন লুফাতের ভয় ছিল এই সম্পর্কের কোন ভবিষ্যৎ নেই।

২০১৪ সালে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেয় স্বতন্ত্রা। কিন্তু রাজি হয়নি লুফাত। কিন্তু লুফাত বন্ধুত্বের সম্পর্কটা নষ্ট করেনি। এভাবে চলেছে দীর্ঘদিন। এবং অবশেষে ২০১৬ সালে রাজি হয় লুফাত। কি ভাবছেন ভালোবাসার জয় হয়েছে? না তা ঠিক নয়, সমস্যা তো কেবল শুরু।

এতদিন সমস্যা ছিল নিজেদের মাঝে কিন্তু এখন সেটা চলে গেছে পরিবারের মাঝে। একে তো দু’জন দু’দেশের আবার তাদের ধর্মও আলাদা। পরিবার মানছে না আর লুফাতও পরিবারের অমতে বিয়ে করবে না।

সে এক বিরাট ইতিহাস। অতো সহজে কি আর মেয়ের পরিবার রাজী হয়? বহু সিনেমাটিক চড়াই উতড়াই এর পর মেনে নিলো দুটি পরিবারই। বাংলাদেশী মুসলিম রীতিতে বাংলাদেশেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো লুফাত আর স্বতন্ত্র। এবার টোনাতুনি উড়াল দিলো অন্ধ্র প্রদেশ জাঙ্গারিড্ডিগুডেম। ওখানে আরও একবার তেলেগু রীতিতে তুমুল আয়োজন করে বিয়ে হলো তাদের। আর এভাবেই অবসান ঘটলো রুদ্ধশ্বাস আর অসংখ্য প্রতীক্ষার।

নিজলক্রিয়েটিভ লুফাত আর স্বতন্ত্রের বিয়ের পুরো জার্নির আদুরে সময়গুলো আটকে রেখে পরিবেশন করছে আপনাদের সামনে। আপনারাই দেখে নিন না কি মায়াময় তাদের আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত গুলো।

====================

“One day he asked me, “Will you marry me? Will you be there beside me for the rest of
my lifetime?” I was dumbfounded! How would that be true! I’m a Muslim girl from
Bangladesh while he is an Indian Telegu boy! And how can we make a family homes
away in USA!

But we made it happen. And finally here we are. A Happy Family – Lufta”

❤ Story of Lufat and Swatantra ❤

It was 2012. Lufat had just passed her high school examinations from Dhaka and had come to the US for
her higher studies. Even being a lively girl from the bloc, she was getting bored coping up with a new
environment. She was simply anxiousness trying to make new friends and finding a place to fit in – yes
we all get there sometime! Her life was confined between the campus playground, lecture halls, and her
residence.

One day she was invited in an Indian-Bangladeshi community program. Friends were getting together
doing fun stuff and taking photos in different postures. Lufta felt this was the perfect place to cool off.
She was home ways from home; a familiar environment where everything now made sense.

In the beauty of the moment, an Indian Telegu boy named Swatantra asked her to take some photos.
She noticed that the boy was imitating her posture – kind of making fun of her. She was annoyed and
uttered “why is this boy imitating my posture!”
Even so, she reluctantly took his photos and sent them to his facebook ID; and just like that, a bridge
was built, and a beautiful story born – The Story of Lufat and Swatantra. From then, they met again in
another program.

This time round Lufat started conversation; they talked about several things and passed time. Lufat
couldn’t find a better topic so she asked Swatantra if he had watched some popular Hindi movies, and
just like that, they hit it off. Swatantra confessed that he hadn’t watched most of them so he could get
her attention more.

Lufat was astonished about this and she thought to herself ‘how come being an Indian he didn’t watch
such good movies!’ This triggered her curiosity more.

As days passed Lufat was getting curious about Swatantra. And the more they met, the more they got
attracted to each other. And like the opposite poles of magnet they couldn’t have enough of each
other’s company. However, their affectionate remained untold as none of them wanted to make the
first move. Maybe they feared the uncertainty.

Lufat was fond of coffee. One night she was out for coffee but found the cafeteria closed. She told
Swatantra that how it was the perfect night for coffee and that she couldn’t have a cup because the café
was closed.

Swatantra didn’t want to see her down, so he gave her a surprise. He made himself a flask of coffee and
met Lufat. Lufat was really amazed. She realized that she could go her whole life with a guy who could
take care of her with the smallest things that really matter in life. Every single day since then she could
get more out of thinking about Swatantra.

Yes, she realized something is happening from within her; and yet she feared the more. 10 months on,
academic program was coming to a completion and it was the time to get back home in Bangladesh.
Swatantra saw her off. In the airport they said goodbye with a full of chest hurt.

But they didn’t stop talking. Swatantra called frequently. He always asked her to come back again
whenever he hanged up the phone. They finally accepted their fate – they were in love. However, they
realized it would be hard getting married as their religion and culture were different.

All the same, they took it on! And after many struggles their families finally accepted their union. They
finally got married in Bangladesh in Muslim rituals. Then they flew to Andhra Pradesh
Jangareddygudem. There they again completed rituals in Telegu fashion.

Love conquers all, so they say! And as it turned out, this is how these two love birds could overcome
their long wait to be together. And as fate would have it, every moment of their breathtaking story was
held in its freshness.

NijolCreative was there with cameras, not capturing the moments, but holding the memories for an
awesome story that generations would cherish. Ask no more, here is the story’s ending and every
moment held. Don’t you see the affectionate moments?

Comments

comments